১. কতটুকু সময় ধরে পড়তে হবে?

উত্তর: পরীক্ষার ৪-৫ মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা পড়াশুনা করতে হবে। বিসিএস নিয়ে সিরিয়াসলি চিন্তা করে থাকলে অন্য জায়গায় মনোযোগ দেওয়া বাদ দিন! চাকরিতে যুক্ত থাকলে, সম্ভব হলে ছেড়ে দিন। ছাড়তে না পারলে অন্তত দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা সময় পড়াশুনার জন্য বের করুন।
২. কোচিং করব কি করব না?
উত্তর: যারা প্রথমবার বিসিএস পরীক্ষা দেবেন বা যারা একান্তই নিজে নিজে পড়ার একটা ব্যবস্থা করতে পারছেন না, তারা কোচিং নিয়ে চিন্তা করতে পারেন। চাকরির সাথে যুক্ত হলে পড়ার জন্য সময় বের করাটা অনেক কঠিন হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে ভালো একটা কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে যেতে পারেন।
৩. কীভাবে পড়াশুনা শুরু করতে হবে?
উত্তর: আপনি যে বিষয়ে বেশি দুর্বল সে বিষয়টা আগে ধরুন। দুর্বলতার জায়গাগুলো খুঁজে বের করুন। সাহায্যের প্রয়োজন হলে পরিচিত অভিজ্ঞজনদের কাছে সাহায্য নিন।
৪. গ্রুপ স্টাডি করব কি করব না?
উত্তর: গ্রুপ স্টাডি করার সুযোগ থাকলে অবশ্যই করবেন। ফ্রেন্ড সার্কেলদের নিয়ে বা ছোট-বড় ভাই-বোনদের নিয়ে গ্রুপ স্টাডি শুরু করুন। ইদানিং অনেকেই ফেইসবুকে গ্রুপ স্টাডি করে থাকেন। পদ্ধতি জেনে নিয়ে সময় ও টপিক নির্দিষ্ট করে প্রতিদিন গ্রুপ স্টাডি করা যেতে পারে।
৫. গ্রুপ স্টাডি করে কী লাভ?
উত্তর: গ্রুপ স্টাডির লাভগুলো নিম্নরূপ:
১. বারবার অনুশীলন করে নিজেকে ঝালাই করে নেওয়া যায়
২. বই-পুস্তকে থাকা ভুলগুলো শুধরিয়ে নেওয়া যায়
৩. পড়াশুনায় আগ্রহ বাড়ে
তবে কাজের চেয়ে কথা বেশি হলে গ্রুপ স্টাডিতে সময় অপচয় হতে পারে। তাই সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। Android App: Job Circular
৬. গাইড বইয়ের সবটাই কি পড়তে হবে?
উত্তর: বিসিএস পরীক্ষার রয়েছে বিশাল বড় সিলেবাস। বিসিএস-এ সবটা পড়া কারো পক্ষেই সম্ভব না। এখানে কেউ ১০০% প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে যায় না! তাই বিসিএস-এ কী কী পড়তে হবে এটা জানা যেমন আবশ্যক তেমনি কী কী বাদ দিতে হবে এটা জানাও আবশ্যক! বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করলেই এ বিষয়ে ধারণা পেয়ে যাবেন।
৭. গণিত ও ইংরেজিতে ভালো করার উপায় কী?
উত্তর: এ প্রশ্নের উত্তর আপনি ছোটকাল থেকেই শুনে আসছেন। প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টা সময় এ দুটো সাবজেক্টকে দিন। এভাবে একমাস নিজেকে অনুশীলনে-চর্চায় ঝালাই করে নিন। পূর্বের ‘আপনি’ আর একমাস পরের ‘আপনি’র মাঝে তফাৎ খুঁজুন। আশা করি উত্তর পেয়ে যাবেন।
৮. পড়াশুনায় মন বসানো যায় কীভাবে?
উত্তর: আপনার যদি শুধু পরীক্ষার আগের রাতে পড়ার অভ্যাস থাকে তাহলে কোনো পরীক্ষার আবেদনই বাদ রাখবেন না। সবখানেই অ্যাপ্লাই করুন আর ধুমসে পরীক্ষা দিন। দেখবেন পড়ায় আগ্রহ বেড়ে গেছে! আগ্রহ বেড়ে গেলে তা কন্টিনিউ করুন। পড়াশুনা কিন্তু নিয়মিত করবেন। মাঝে থেমে গেলে চলবে না। তাহলে আবার পড়াশুনায় আগ্রহ কমে যাবে। যে চাকরি আপনি এতগুলো বছর আরামে করবেন তার জন্য না হয় এই কটা দিন কষ্ট করলেন!
৯. আমাকে দিয়ে কি বিসিএস হবে?
উত্তর: হবে! Nothing is impossible! মনে রাখুন, বিসিএস কেবল মেধা যাচাইয়ের পরীক্ষা না, এটা ধৈর্য যাচাইয়েরও পরীক্ষা। ধৈর্য ধরে পড়াশুনা চালিয়ে যান। আপনার যা আছে তাকেই ধার দিয়ে দিয়ে তীক্ষ্ণ করে তুলুন। প্রথমবার না হোক, পরেরবার আপনার জয় শুনিশ্চিত! জয় হবেই আপনার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *