এখন যা অবস্থা দেখা যাচ্ছে মাঝে মাঝে মনে হয় চাকুরী আর ব্যবসা বা পেশার জন্যই বেঁচে থাকা বা এসবের জন্যই জীবন । অনেকে যেকোনো পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করার পর ভুলেই যায় যে সে জীবিকার তাগিদে এই পেশায় এসেছিলো, পড়ে তাদের ভাবে মনে হয় পেশার জন্য জীবন কিন্তু জীবনের জন্য পেশা না । এখন ভাবেসাবে মনে হচ্ছে স্টুডেন্টরা পারলে এইচএসসি পরীক্ষার পর থেকেই ভার্সিটি বুয়েট বা মেডিকেল কলেজে ভর্তির চিন্তা বাদ দিয়ে বিসিএস এর চিন্তা করে । ভার্সিটি ফার্স্ট ইয়ার থেকেই বিসিএস এবং অন্যান্য চাকুরীর জন্য পড়া শুরু , খোঁজখবর নেয়া শুরু ? কেন ভাই ? কি দরকার এত্ত আগে থেকে চাকুরীর চিন্তা করার । Come on, try to enjoy your university life. এই সময়টার কথা সারাজীবন মনে থাকবে আর মনে পড়বে, ক্যাম্পাস লাইফ পুরাই অন্য সময়, এটা বুঝবা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেলে । ক্যারিয়ারিস্ট হওয়া ভালো কিন্তু বেশি ক্যারিয়ারিস্ট হওয়াটা আবার খারাপ । সেক্ষেত্রে লাইফে শুধু ক্যারিয়ারটাই থাকে আর কিচ্ছু থাকেনা, আর খুব বেশি ক্যারিয়ারিস্টদের অল্পতেই খুব অসুখী আর হতাশ হতে দেখেছি ( আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বললাম, ব্যতিক্রমও থাকতে পারে ) ।
সময় হলে ঠিকমতো মনোযোগ দিয়ে ৩-৪ মাস স্টাডি করলে যথেষ্ট, দিনের পর দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসব ঘণ্টা নিয়ে পড়ে থাকার কি কোন দরকার আছে ? কতজনকে নিয়ে শুনেছি উনি নাকি ৩ ইয়ার ধরে প্রিলির প্রস্তুতি নিচ্ছে, রেজাল্ট কি? প্রিলিতেই বাদ, ৩ বছর ধরে তিনি প্রিলিতে টেকার প্রস্তুতি নিয়েছেন নাকি কিভাবে স্মার্টলি বাদ পড়া যায় এই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন কে জানে ? এজন্যই বুঝি কথা আছে Work smarter not harder. জীবনে প্রতিটা কাজেরই সময় আসে, সময়ের কাজ সময়ে করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ, নাহলে সকল কাজ পণ্ড হবার চান্স থাকে । অনেককে দেখেছিলাম এইচ এস সি তে থাকতেই তার খুব চিন্তা বুয়েট, মেডিক্যাল নাকি ভার্সিটিতে কিভাবে পড়বে, কিভাবে প্রস্তুতি নিবে, রেজাল্ট- এইচ এস সি তেই ফেল । একইসাথে অনেক নৌকায় পা দিলে শুধু নিজে না , এখন নৌকাসহ উলটানোর চান্স বেশি ( এই নৌকা হচ্ছে নিজের পরিবার ) । অসংখ্য ইনবক্স পেয়েছি, যারা ভার্সিটিতে ১ম বর্ষে ভর্তি হয়েছে আর এখন থেকেই চিন্তা কিভাবে বিসিএস , বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তুতি নেয়া যায় । কেন ? তুমি কি ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছো নাকি বিসিএস এর কোচিং সেন্টারে ? ভার্সিটি থেকে কি বিসিএস ক্যাডার ছাড়া আর কিছু বের হয়না ?
তোমাদের এখন লক্ষ্য থাকা উচিত কিভাবে অনার্সে তোমার সাবজেক্টে তুমি খুব ভালো করতে পারো সেটা আর বাকি সময় ভার্সিটি জীবনটা পুরোদমে উপভোগ করা । তোমার রেজাল্ট খুব ভালো হলে তুমিতো স্কলারশিপ নিয়ে বাইরে উচ্চতর ডিগ্রীর জন্য পড়তে যেতে পারবে । আমি আগেও বলেছি আগে নিজেকে জিজ্ঞেস কর তোমার কি করতে ভালো লাগে, যেটা ভালো লাগে সেদিকে বেশি মনোযোগ দাও, নিজের creativity টাকে কখনোই নষ্ট হতে দিওনা । ভালো করতে পারলে সকল পেশাই ভালো, যেকোনো পেশা চয়েস করার আগে খোঁজ নিতে পারো যে সেই পেশাটা তোমার ব্যক্তিগত পছন্দ, তোমার পারিবারিক অবস্থান , তোমার লাইফস্টাইলের সাথে যায় কিনা ? অমুকে বলল অমুকে গেছে তাই দুচোখ বন্ধ করে অমুকের পেছনে পেছনে দিলাম দৌড়, কিছুক্ষণ পর দেখলাম খাদে পড়ে গেছি আর অমুক তো খাদ উড়ে সামনে চলে গেছে কারণ তার উড়ার ডানা ছিল তোমার নাই, এটা যেন না হয় । নিজেই নিজের অভিভাবক হতে পারলে আর যুক্তিসঙ্গতভাবে নিজের ভালো বুঝতে পারলে আর কোন গাইডলাইন সাধারণত লাগেনা ।
অনার্স ফাইনাল ইয়ারের দিকে এসে চাকুরী ও অন্যান্য পরীক্ষা নিয়ে ভাবা উচিত । যারা একেবারেই নতুন তারা কিভাবে প্রস্তুতি শুরু করতে সেটা নিয়ে সামনে লিখার চেষ্টা করবো । কিন্তু যারা অনেক আগে থেকেই এসব চাকুরী নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছ তাদের বলছি কোন দরকার নেই, এখন নিজের অনার্সের রেজাল্ট ভালো করার দিকে বেশি মনোযোগ দাও, ব্যস । অমুকে এটা করছে অমুকে সেটা করছে সেদিকে নজর দেয়ার দরকার নেই, অমুকের হিমালয়ের চূড়ায় উঠে লাফ দেয়ার খায়েশ হলে তার দেখাদেখি তুমিও লাফ দিবা নাকি যে হিমালয়ের চূড়া থেকে লাফাতে কেমন লাগে একটু দেখি ? তুমি যখন সময় আসবে নিজের মত প্রস্তুতি নেয়ার চেষ্টা করবে, আনুমানিক কত মার্ক পেলে সেই পরীক্ষায় সফল হওয়া যায় সেটা বিগত বছরগুলোর তথ্য নিয়ে মার্ক টার্গেট করে পড়া শুরু করবে, দেখবে ঠিকই সেই মার্ক পেয়ে গিয়েছ, বিশেষ কারো সাথেই competition হবেনা, competition হবে নাম্বারের সাথে । জীবনে দূরদর্শী হওয়া ভালো কিন্তু খুব বেশি দূরদর্শী হলে সারাজীবন শুধু দূরের জিনিসই দর্শন করতে হবে, কাছের জিনিসগুলো তখন আর চোখে পড়বে না । এটাই আরকি, এতো আগে থেকে এতো বেশিকিছু না ভেবে নিজের সময়ের কাজগুলো সময়ে করার চেষ্টা কর তোমরা, সফল তুমিই হবে । ভালো থাকবে সবাই. Good luck guys.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *